চীন ভ্রমণ গাইড: গ্রেট ওয়াল ও ঝাংজিয়াজিয়ে – এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা
চীন ভ্রমণ সম্পূর্ণ গাইড
গ্রেট ওয়াল ও ঝাংজিয়াজিয়ে
পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় ও মনোমুগ্ধকর দেশ চীনের দুটি অসাধারণ গন্তব্যের বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড
বিষয়সূচি
চীন কেন যাবেন?
এশিয়ার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিশাল সভ্যতার দেশ চীন। পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির অপরূপ সমন্বয়ে চীন আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতি বছর ৬০ কোটিরও বেশি পর্যটক এই দেশটি ভ্রমণ করেন, যা বলে দেয় এই দেশের আকর্ষণ কতটা গভীর।
চীনে ভ্রমণ করলে একদিকে যেমন প্রাচীন সভ্যতার ছোঁয়া পাওয়া যায়, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তি ও শহুরে জীবনযাত্রার দৃশ্যও চোখ জুড়িয়ে দেয়। বেইজিং-এর ঐতিহাসিক প্রাসাদ থেকে শুরু করে শাংহাই-এর আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, সিয়ানের টেরাকোটা আর্মি থেকে ইউনানের প্রাচীন শহর, চীনে দেখার কোনো শেষ নেই।
তবে এই আর্টিকেলে আমরা মূলত চীনের দুটি অবিস্মরণীয় গন্তব্য নিয়ে আলোচনা করব। একটি হলো মানবজাতির সবচেয়ে বড় স্থাপত্য নিদর্শন গ্রেট ওয়াল অফ চায়না, আর অপরটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যভূমিগুলোর একটি, ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক।
রাজধানী
বেইজিং (Beijing)
মুদ্রা
চীনা ইউয়ান (CNY / RMB)
ভাষা
ম্যান্ডারিন চাইনিজ
সেরা সময়
মার্চ-মে ও সেপ্টেম্বর-নভেম্বর
চীনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে জেনে রাখুন, দেশটি বিশাল আয়তনের। তাই একটি সুচিন্তিত ভ্রমণ পরিকল্পনা ছাড়া সময় ও অর্থের অপচয় হতে পারে। এই গাইডটি আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।
গ্রেট ওয়াল অফ চায়না
মহাকাশ থেকে দেখা যায় কিনা সে বিতর্ক থাকলেও, গ্রেট ওয়াল অফ চায়না যে পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর একটি, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রায় ২১,১৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীর চীনের উত্তরে পাহাড়ের বুক বেয়ে আঁকাবাঁকাভাবে এগিয়ে গেছে যুগের পর যুগ ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দী থেকে শুরু হয়ে মিং রাজবংশের আমলে (১৩৬৮-১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ) এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
গ্রেট ওয়ালের বিভিন্ন সেকশন
গ্রেট ওয়ালের সবটুকু এক সাথে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। বেইজিং থেকে কাছের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেকশন সম্পর্কে জেনে নিন:
বাডালিং (Badaling): এটি সবচেয়ে পরিচিত ও সংরক্ষিত সেকশন। বেইজিং থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভালোভাবে সংস্কার করা হয়েছে, তবে পর্যটকের ভিড় এখানে সবচেয়ে বেশি। শারীরিকভাবে কম কষ্টসাধ্য হওয়ায় পরিবার ও বয়স্কদের জন্য এটি আদর্শ। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: www.badaling.gov.cn
মুতিয়ানু (Mutianyu): বাডালিং-এর চেয়ে কিছুটা কম ভিড়, কিন্তু সমানভাবে সুন্দর। এখানে কেবল কার ও টোবোগান রাইডের সুবিধা আছে, যা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বেইজিং থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দূরে।
জিনশানলিং (Jinshanling): ফটোগ্রাফারদের স্বর্গ। এখানে অনেকটাই অসংরক্ষিত অবস্থায় প্রাচীর দেখতে পাওয়া যায়, যা একটি ভিন্ন অনুভূতি দেয়। ট্রেকিং প্রেমীদের জন্য আদর্শ।
সিমাতাই (Simatai): রাতের আলোয় গ্রেট ওয়াল দেখার একমাত্র জায়গা। সূর্যাস্তের পর এখানে ওয়াল ইলুমিনেটেড হয়, যা এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য তৈরি করে।
টিকিট ও প্রবেশ মূল্য
| সেকশন | প্রবেশ মূল্য | কেবল কার | বেইজিং থেকে দূরত্ব |
|---|---|---|---|
| বাডালিং | ৪০ CNY (গ্রীষ্ম) / ৩৫ CNY (শীত) | ১৪০ CNY (রাউন্ড ট্রিপ) | ৭০ কি.মি. |
| মুতিয়ানু | ৬৫ CNY | ১০০ CNY (আপ) / ৬০ CNY (ডাউন) | ৭৩ কি.মি. |
| জিনশানলিং | ৬৫ CNY | প্রযোজ্য নয় | ১৩০ কি.মি. |
| সিমাতাই (রাতে) | ১০০ CNY | ৬০ CNY | ১২০ কি.মি. |
টিকিট অনলাইনে আগে থেকে বুক করার জন্য Trip.com বা Klook-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। পিক সিজনে আগে থেকে বুক করা জরুরি।
বেইজিং থেকে কীভাবে যাবেন
বেইজিং থেকে গ্রেট ওয়ালে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ট্যুর বাস। বেইজিং-এর বিভিন্ন হোটেল থেকে ডে ট্যুর পাওয়া যায়, যার খরচ সাধারণত ২০০-৩৫০ CNY। এছাড়া বেইজিং উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাডালিং পর্যন্ত হাই-স্পিড ট্রেনও রয়েছে।
ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক
চীনের হুনান প্রদেশে অবস্থিত ঝাংজিয়াজিয়ে এমন একটি জায়গা যা দেখলে মনে হয় কোনো কল্পনার জগতে প্রবেশ করেছেন। আকাশ ছোঁয়া পাথরের স্তম্ভ, মেঘের আলিঙ্গনে ঢাকা পাহাড়, গভীর সবুজ অরণ্য আর ঝর্ণার শব্দ মিলিয়ে তৈরি এই অপার্থিব সৌন্দর্য পৃথিবীর অন্য কোথাও মেলে না।
হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা "অবতার" (Avatar, 2009)-এর পরিচালক জেমস ক্যামেরন এই পার্কের পাথরের স্তম্ভগুলো দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা পরে পান্ডোরা গ্রহের "হ্যালেলুজাহ মাউন্টেনস" হিসেবে চিত্রিত হয়। সেই থেকে এই জায়গাটির আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বেড়ে গেছে।
পার্কের প্রধান আকর্ষণগুলো
আভাটার হালেলুজাহ মাউন্টেন (Avatar Hallelujah Mountain): সরকারিভাবে "সাউদার্ন পিলার অফ হেভেন" নামে পরিচিত এই পাথরের স্তম্ভটি প্রায় ১,০৮০ মিটার উঁচু। এটিই অবতার সিনেমার ভাসমান পাহাড়ের অনুপ্রেরণা। বিশেষ কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে এটি সত্যিই ভাসমান মনে হয়।
বাইলং এলিভেটর (Bailong Elevator): "হান্ড্রেড ড্রাগন এলিভেটর" নামেও পরিচিত এই লিফটটি বিশ্বের সর্বোচ্চ আউটডোর লিফট, যা ৩৩৫ মিটার উচ্চতায় পাথরের দেয়াল বেয়ে ওঠে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে এর নাম লেখা আছে। মাত্র ২ মিনিটে এই লিফট আপনাকে উপরে নিয়ে যাবে।
তিয়ানমেন মাউন্টেন (Tianmen Mountain): "হেভেনস গেট" নামে পরিচিত এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি বিশাল প্রাকৃতিক খিলান। এখানে যাওয়ার পথে বিশ্বের দীর্ঘতম কেবল কার রাইড উপভোগ করা যায়, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার। তিয়ানমেন মাউন্টেনের "গ্লাস স্কাইওয়াক" অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
ইউয়ানজিয়াজিয়ে এলাকা (Yuanjiajie): পার্কের সবচেয়ে দর্শনীয় এলাকা। এখান থেকেই আভাটার পিলারটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। মনোরেল ট্রেনে চড়ে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়।
ঝাংজিয়াজিয়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গ্লাস ব্রিজ: ২০১৬ সালে উদ্বোধন হওয়া এই কাচের সেতুটি পৃথিবীর দীর্ঘতম ও উঁচুতম কাচের সেতু, যা ৪৩০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এটি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি অবিস্মরণীয়।
ঝাংজিয়াজিয়ে টিকিট ও প্রবেশ তথ্য
| টিকিটের ধরন | মূল্য (CNY) | মেয়াদ |
|---|---|---|
| ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক | ২২৫ | ৪ দিন |
| তিয়ানমেন মাউন্টেন | ২৫৮ | ১ দিন |
| বাইলং এলিভেটর | ৭২ | একমুখী |
| গ্লাস ব্রিজ | ১৯৮ | ১ দিন |
| কেবল কার (তিয়ানমেন) | ২৫৮ (রাউন্ড ট্রিপ) | — |
ঝাংজিয়াজিয়ের অফিশিয়াল তথ্যের জন্য দেখুন: www.zhangjiajie.com.cn
কীভাবে পৌঁছাবেন
ঝাংজিয়াজিয়ে শহরে নিজস্ব বিমানবন্দর আছে, যার নাম ঝাংজিয়াজিয়ে হেফেং বিমানবন্দর। বেইজিং, শাংহাই, গুয়াংজু থেকে সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায়। এছাড়া চাংশা শহর থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে প্রায় ২ ঘণ্টায় ঝাংজিয়াজিয়ে পৌঁছানো যায়।
প্রস্তাবিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (৮ দিন)
বেইজিং ও ঝাংজিয়াজিয়ে দুটো আলাদা শহরে অবস্থিত। তাই দুটো গন্তব্য একসাথে কভার করতে হলে কমপক্ষে ৭-১০ দিনের পরিকল্পনা করুন। নিচে একটি আদর্শ ৮ দিনের পরিকল্পনা দেওয়া হলো:
বেইজিং আগমন ও অভিযোজন
বিমানবন্দর থেকে হোটেলে চেকইন। বিকেলে তিয়ানানমেন স্কয়ার ও নিষিদ্ধ নগরীর (Forbidden City) বাইরে থেকে দেখুন। সন্ধ্যায় কাছাকাছি রেস্তোরাঁয় পেকিং ডাক ট্রাই করুন।
বেইজিং দর্শনীয় স্থান
সকালে নিষিদ্ধ নগরী (Palace Museum), বিকেলে সামার প্যালেস ও টেম্পল অফ হেভেন। সন্ধ্যায় ওয়াংফুজিং শপিং স্ট্রিটে যান।
গ্রেট ওয়াল ডে ট্রিপ (মুতিয়ানু)
সকাল ৮টায় বেইজিং থেকে রওনা। মুতিয়ানু সেকশনে গ্রেট ওয়াল ট্রেকিং। বিকেলে ফিরে আসুন এবং রাতে বিশ্রাম নিন।
বেইজিং থেকে ঝাংজিয়াজিয়ে যাত্রা
সকালে ফ্লাইটে ঝাংজিয়াজিয়ে। বিমানবন্দর থেকে শহরে হোটেলে চেকইন। বিকেলে বিশ্রাম ও পার্কের কাছাকাছি এলাকা ঘুরে দেখুন।
ঝাংজিয়াজিয়ে ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক (দিন ১)
সকালে ইউয়ানজিয়াজিয়ে এলাকা। বাইলং এলিভেটর রাইড। আভাটার হালেলুজাহ মাউন্টেন দর্শন। বিকেলে মনোরেল ট্রেনে অন্যান্য স্থান।
ঝাংজিয়াজিয়ে পার্ক (দিন ২) ও গ্লাস ব্রিজ
সকালে পার্কের অন্যান্য ট্রেইল হাইকিং। দুপুরে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গ্লাস ব্রিজ। বিকেলে কাছের ঝর্ণা এলাকা পরিদর্শন।
তিয়ানমেন মাউন্টেন ও কেবল কার
সারাদিন তিয়ানমেন মাউন্টেনে। বিশ্বের দীর্ঘতম কেবল কার রাইড। হেভেনস গেট দর্শন। গ্লাস স্কাইওয়াকে হাঁটা।
বাড়ি ফেরা
সকালে শেষবারের মতো শহর ঘুরুন, স্মরণীয় কেনাকাটা করুন। বিকেলে ফ্লাইটে দেশে ফেরা।
বাজেট ও খরচের হিসাব
চীন ভ্রমণের বাজেট নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রার মান ও পছন্দের উপর। বাজেট ট্র্যাভেলার থেকে শুরু করে লাক্সারি ট্র্যাভেলার, সবার জন্যই চীনে বিকল্প রয়েছে।
| খরচের খাত | বাজেট | মিড-রেঞ্জ | লাক্সারি |
|---|---|---|---|
| বিমান (ঢাকা-বেইজিং রাউন্ড ট্রিপ) | ৳৪০,০০০-৫৫,০০০ | ৳৫৫,০০০-৮০,০০০ | ৳১,২০,০০০+ |
| হোটেল (প্রতি রাত) | ৳১,২০০-২,৫০০ | ৳৩,০০০-৬,০০০ | ৳৮,০০০+ |
| খাবার (প্রতিদিন) | ৳৬০০-১,২০০ | ৳১,৫০০-৩,০০০ | ৳৪,০০০+ |
| প্রবেশ টিকিট (মোট) | ৳৮,০০০-১২,০০০ (উভয় গন্তব্য) | ||
| স্থানীয় পরিবহন | ৳৫০০-৮০০/দিন | ৳১,০০০-২,০০০/দিন | ৳৩,০০০+/দিন |
৮ দিনের জন্য একজন মিড-রেঞ্জ বাজেটে মোট খরচ আসতে পারে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে। বাজেট ট্র্যাভেলারদের জন্য এটি ১ লাখ ২০ হাজারেও করা সম্ভব।
ভিসা ও প্রবেশাধিকার
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের চীন ভ্রমণের জন্য ভিসা নেওয়া আবশ্যক। তবে সুখবর হলো, ২০২৪ সাল থেকে চীন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে।
চীনা ভিসার ধরন
L ভিসা (ট্যুরিস্ট ভিসা): পর্যটনের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত ভিসা। সাধারণত ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ দেওয়া হয়।
ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে), সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, হোটেল বুকিং কনফার্মেশন, রাউন্ড ট্রিপ বিমানের বুকিং কনফার্মেশন এবং পূরণ করা ভিসা আবেদন ফর্ম।
ঢাকায় চীনা দূতাবাসে সরাসরি ভিসার আবেদন করা যায়। দূতাবাসের ঠিকানা: প্লট ২-৪, সিয়েনদায় লেন, বারিধারা, ঢাকা। আরও তথ্যের জন্য দেখুন: চীনা দূতাবাস ঢাকা
ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
ভাষার বাধা কীভাবে মোকাবেলা করবেন
চীনে ইংরেজিতে কথা বলার মানুষ তুলনামূলক কম, বিশেষত ছোট শহরে। Google Translate অ্যাপে চীনা ভাষার অফলাইন প্যাকেজ ডাউনলোড করে রাখুন। বেইজিং ও প্রধান পর্যটন এলাকায় সাইনবোর্ড সাধারণত ইংরেজিতেও থাকে। প্লেকার্ডে গন্তব্যের নাম চীনা ভাষায় লিখে রাখলে ট্যাক্সি ড্রাইভার বুঝতে পারবেন।
পেমেন্ট ও ব্যাংকিং
চীনে নগদ টাকার চেয়ে WeChat Pay ও Alipay বেশি প্রচলিত। তবে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহারে কিছু জটিলতা থাকতে পারে। Visa ও Mastercard কার্ড বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্রহণ করা হয়, তবে স্থানীয় বাজারে নগদ CNY রাখা ভালো। বিমানবন্দর বা বড় ব্যাংকে মুদ্রা বিনিময় করুন।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগ
চীনে Google, WhatsApp, Facebook, YouTube, Instagram সব বন্ধ। VPN ছাড়া এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। যাওয়ার আগেই একটি নির্ভরযোগ্য VPN কিনুন ও ডিভাইসে ইনস্টল করুন। চীনে পৌঁছানোর পরে VPN কেনা বা ডাউনলোড করা সম্ভব হয় না কারণ VPN-সম্পর্কিত ওয়েবসাইটগুলোও ব্লক।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
বেইজিং ও বড় শহরে বায়ু দূষণ বেশি থাকে। N95 মাস্ক সাথে রাখুন। চীনের ট্যাপের পানি পান করবেন না, বোতলের পানি কিনুন। স্থানীয় খাবার খেলে সতর্ক থাকুন, অচেনা রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলুন। চীন সাধারণত পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, কিন্তু পকেটমার থেকে সাবধান থাকুন।
স্থানীয় শিষ্টাচার
মন্দির ও পবিত্র স্থানে জুতা খুলুন। খাওয়ার সময় বাটিতে সরাসরি মুখ লাগানো অশিষ্ট। বয়স্কদের সামনে নম্র থাকুন। ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। সরকারি স্থান ও সামরিক স্থাপনার ছবি তোলা নিষিদ্ধ।


কোন মন্তব্য নেই