Header Ads

কাঠমান্ডু – প্রাচীন মন্দির ও সংস্কৃতির শহর | ভ্রমণ ব্লগ

কাঠমান্ডু_প্রাচীন_মন্দির_ও_সংস্কৃতির_শহর_ভ্রমণ_ব্লগ

 

কাঠমান্ডু – প্রাচীন মন্দির ও সংস্কৃতির শহর | ভ্রমণ ব্লগ
✈ ভ্রমণ সিরিজ

কাঠমান্ডু
প্রাচীন মন্দির ও সংস্কৃতির শহর

হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এক জীবন্ত সভ্যতার খোঁজে

🗓️ জুন 2026 ⏱️ পড়তে লাগবে ১০ মিনিট 🌍 নেপাল ✍️ ট্রাভেল ডায়েরি

কাঠমান্ডু। নামটা শুনলেই কেন জানি মাথায় ভেসে ওঠে পাহাড়ের ধুলো, ধূপের গন্ধ আর মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ। এই শহর শুধু নেপালের রাজধানী নয়, এটা কার্যত একটা জীবন্ত জাদুঘর যেখানে হাজার বছরের ইতিহাস এখনও রাস্তায় হেঁটে বেড়ায়।

আমি যখন প্রথমবার কাঠমান্ডুতে পা দিয়েছিলাম, তখন বুঝেছিলাম এই শহর বর্ণনা করা কতটা কঠিন। এখানকার মন্দির, খাবার, মানুষ, পথঘাট — সব কিছুই এমন যেন একটু বেশি বাস্তব। বাংলাদেশ থেকে আসা আমাদের জন্য এই জায়গাটা আরও কাছের, কারণ ভাষা না বুঝলেও হৃদয়টা ঠিকই বোঝে।

কাঠমান্ডু কেন এত বিশেষ?

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কাঠমান্ডু উপত্যকাটি হিন্দুহিন্দুধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম। নেপাল একমাত্র দেশ যেখানে সরকারিভাবে হিন্দুধর্ম রাষ্ট্রধর্ম ছিল (২০০৮ সাল পর্যন্ত)।বৌদ্ধবৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম বুদ্ধের জন্ম নেপালের লুম্বিনীতে। কাঠমান্ডুতে বৌদ্ধ স্তূপ ও বিহারের সংখ্যা অগণিত। সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল। শহরের সাত জায়গা UNESCOUnited Nations Educational, Scientific and Cultural Organization। কাঠমান্ডু উপত্যকার ৭টি স্থান ১৯৭৯ সালে UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়। বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

এই শহরে গেলে বুঝবেন কেন লেখকেরা বলেন — "কাঠমান্ডু হল পৃথিবীর ছাদের দরজা।" নেওয়ারনেওয়ার জাতি কাঠমান্ডু উপত্যকার আদিবাসী। তাদের স্থাপত্য, শিল্পকলা ও রন্ধনশৈলী কাঠমান্ডুর পরিচয় গড়ে তুলেছে। জনগোষ্ঠীর তৈরি কাঠের খোদাই করা প্রাসাদ, পাগোডা স্থাপত্য আর অলিতে গলিতে থাকা ছোট ছোট মন্দির — এই সব মিলিয়ে কাঠমান্ডু পৃথিবীর অন্য কোনো শহরের মতো নয়।

🔖 দ্রুত তথ্য: কাঠমান্ডু নেপালের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইটে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের পথ।

দেখার জায়গা — যেখানে না গেলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ

🛕

পশুপতিনাথ মন্দির

হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্রতম তীর্থস্থান। বাগমতী নদীর তীরে এই শিব মন্দিরটি দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়।

🔵

বৌদ্ধনাথ স্তূপ

এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধ স্তূপগুলোর একটি। হাজার হাজার রঙিন প্রার্থনাপতাকা চারদিকে।

🏛️

কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার

মধ্যযুগীয় প্রাসাদ ও মন্দিরের সমষ্টি। কুমারী দেবীর মন্দিরও এখানেই আছে।

🌄

স্বয়ম্ভূনাথ (মাংকি টেম্পল)

পাহাড়ের চূড়ায় এই বৌদ্ধ মন্দির থেকে পুরো কাঠমান্ডু উপত্যকার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

🏞️

পাটান দরবার স্কয়ার

শিল্পকলার শহর পাটানের এই চত্বরটি কাঠমান্ডুর কাছেই, অথচ যেন ভিন্ন এক জগৎ।

🌿

পশুপতি আর্যঘাট

বাগমতী নদীর তীরে অন্ত্যেষ্টি স্থান। জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা এখানে ক্ষীণ হয়ে আসে।

পশুপতিনাথ: এক অলৌকিক অনুভূতি

সন্ধ্যার আরতিআরতি হল হিন্দু ধর্মের একটি পূজার আচার, যেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবতার সামনে ঘোরানো হয়। পশুপতিনাথের সন্ধ্যা-আরতি অত্যন্ত বিখ্যাত। দেখার জন্য সন্ধ্যা ৬টার আগেই পৌঁছে যান। বাগমতী নদীর পাড়ে বসে যখন ঘণ্টার শব্দ ও ধূপের ধোঁয়া মিলে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়, তখন নিজেকে একটু অন্যরকম মনে হয়। অ-হিন্দু ভ্রমণকারীরা মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না, তবে বাইরে থেকে যা দেখা যায় তা–ই যথেষ্ট।

বৌদ্ধনাথ: নিস্তব্ধতার মধ্যে শান্তি

সকালবেলা বৌদ্ধনাথে গেলে দেখবেন তিব্বতিতিব্বত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। অনেক তিব্বতি বৌদ্ধ শরণার্থী কাঠমান্ডুতে বসবাস করেন এবং বৌদ্ধনাথের আশেপাশের এলাকায় তাদের উপস্থিতি খুব স্পষ্ট। সন্ন্যাসীরা স্তূপটিকে ঘুরে ঘুরে প্রার্থনা করছেন। প্রার্থনার চাকা ঘোরানোর শব্দ, ধূপের গন্ধ আর শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চারিদিকের ক্যাফে থেকে স্তূপটি দেখতে দেখতে কফি খাওয়াও আলাদা মজা।


থামেল — কাঠমান্ডুর ধমনি

কাঠমান্ডুতে গেলে থামেলথামেল হল কাঠমান্ডুর পর্যটক এলাকা। এখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রেকিং সরঞ্জামের দোকান সব একজায়গায় পাবেন। এলাকাটা না দেখলে যেন অর্ধেক কাঠমান্ডু মিস হয়ে যায়। গলিগুলো সরু, রাস্তায় গাড়ি, মোটরবাইক, মানুষ সব একসাথে চলছে — একটা ক্যাওটিক সৌন্দর্য আছে এখানে। হ্যান্ডিক্র্যাফট শপ থেকে শুরু করে লাইভ মিউজিক বার — সব পাবেন এক জায়গায়।

থামেলের ছোট গলিগুলোতে হেঁটে বেড়ানোই আলাদা একটা আনন্দ। পুরনো বইয়ের দোকান, রঙিন থাংকাথাংকা হল তিব্বতি বৌদ্ধ চিত্রকলা। কাপড়ে বা কাগজে আঁকা এই পেইন্টিংয়ে বৌদ্ধ দেবদেবী ও মণ্ডলার চিত্র থাকে। পেইন্টিং, ট্রেকিং গিয়ার — সব কিছুই আছে। তবে দরদাম করতে ভুলবেন না, কারণ প্রথম দামে কিনলে ঠকবেন।

🎯 থামেলে কেনাকাটার টিপস

  • প্রথম দামের ৫০-৬০% থেকে দরদাম শুরু করুন
  • ট্রেকিং গিয়ার কিনতে গেলে বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখুন
  • আসল থাংকা পেইন্টিং কিনলে সার্টিফিকেট চাইতে ভুলবেন না
  • সকালে কেনাকাটা করলে দোকানদার মুডে থাকেন

কাঠমান্ডুর খাবার — পেট ভরবে, মনও ভরবে

নেপালি খাবার মানেই কিন্তু শুধু ডাল-ভাত নয়। কাঠমান্ডুতে গেলে বুঝবেন এখানকার খাদ্যসংস্কৃতি কতটা সমৃদ্ধ। বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর — মসলার ব্যবহার আমাদের কাছাকাছি, তাই মুখে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় না।

🥟
মোমো

নেপালের জাতীয় স্ট্রিট ফুড। বাষ্পে সেদ্ধ বা ভাজা ডাম্পলিং। মুখে দিলে একবারে না থামতে পারবেন না।

🍚
দাল ভাত তরকারি

নেপালের ঐতিহ্যবাহী থালি। ডাল, ভাত, তরকারি আর আচার — সরল কিন্তু অসাধারণ।

🍜
থুকপা

তিব্বতি প্রভাবের নুডল স্যুপ। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এটা খেলে শরীর গরম হয়ে যায়।

🥩
চতামারি

নেওয়ারি চালের আটার প্যানকেক। টপিংয়ে মাংস বা সবজি দিয়ে খাওয়া হয়।

চিয়া চা

নেপালি মশলাদার চা। সকালে এক কাপ নিলে দিনটা শুরু হয় দারুণভাবে।

🍬
জেরি

নেপালি মিষ্টি যা আমাদের জিলাপির মতো। গরম খেলে অসাধারণ।

কোথায় খাবেন?

থামেলের OR2K রেস্তোরাঁ বা Thamel House-এ নেওয়ারি খাবার পাওয়া যায়। বাজেটে খেতে হলে স্থানীয় "ভাতঘর" খুঁজুন — এখানে মাত্র ২০০-৩০০ নেপালি রুপিতে পেট ভরা থালি পাবেন। আরও ভালো গাইডের জন্য দেখুন TripAdvisor কাঠমান্ডু রেস্তোরাঁ গাইড


কাঠমান্ডু ভ্রমণ: খরচের হিসাব

বাংলাদেশ থেকে কাঠমান্ডু ভ্রমণের খরচ অনেকে ভাবেন অনেক বেশি, কিন্তু আসলে একটু পরিকল্পনা করলে বেশ সাশ্রয়ী হয়।

খাতবাজেট (৳)মধ্যম (৳)আরামদায়ক (৳)
✈️ ঢাকা–কাঠমান্ডু রিটার্ন ফ্লাইট১৫,০০০–২২,০০০২২,০০০–৩৫,০০০৩৫,০০০+
🏨 হোটেল (প্রতি রাত)৮০০–১,৫০০১,৫০০–৩,৫০০৩,৫০০–৮,০০০
🍽️ খাবার (প্রতিদিন)৫০০–৮০০৮০০–১,৫০০১,৫০০+
🚕 যাতায়াত (প্রতিদিন)২০০–৪০০৪০০–৮০০৮০০–১,৫০০
🎫 প্রবেশমূল্য ও ভিসা২,৫০০–৩,৫০০৩,৫০০–৫,০০০৫,০০০+
🛍️ কেনাকাটা২,০০০–৫,০০০৫,০০০–১২,০০০১২,০০০+
💡 মাথায় রাখুন: ৫ রাত ৬ দিনের কাঠমান্ডু ট্রিপে জনপ্রতি মোট খরচ বাজেট ভ্রমণে ৩৫,০০০–৫০,০০০ টাকা, আর সুবিধাজনক ভ্রমণে ৭০,০০০–১,০০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে যায়।

ভিসা ও প্রবেশের তথ্য

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নেপাল ভিসা প্রক্রিয়া খুবই সহজ। অন অ্যারাইভাল ভিসাঅন অ্যারাইভাল ভিসা মানে বিমানবন্দরে পৌঁছেই ভিসা নেওয়া যায়। আগে থেকে আবেদন করতে হয় না। পাওয়া যায় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেকাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম। এটি নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।। ১৫ দিনের ভিসার জন্য USD ৩০ এবং ৩০ দিনের জন্য USD ৫০ লাগে। পাসপোর্ট আকারের ছবি ২টি সাথে রাখুন।

আরও বিস্তারিত ভিসার তথ্যের জন্য দেখুন নেপাল ইমিগ্রেশন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

৪ রাত ৫ দিনের আদর্শ ভ্রমণপরিকল্পনা

📅 ১ম দিন — আগমন ও থামেল চেনা
  • বিমানে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু, হোটেলে চেক-ইন
  • বিকেলে থামেল এলাকায় হাঁটাহাঁটি ও কেনাকাটা
  • সন্ধ্যায় থামেলের ছাদের রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার
📅 ২য় দিন — পশুপতিনাথ ও বৌদ্ধনাথ
  • সকালে পশুপতিনাথ মন্দির পরিদর্শন
  • দুপুরে বৌদ্ধনাথ স্তূপ ঘুরে দেখা, স্তূপ পরিক্রমা
  • সন্ধ্যায় পশুপতিনাথের বিখ্যাত আরতি দেখুন
  • কাছের স্থানীয় রেস্তোরাঁয় দাল ভাত রাতে
📅 ৩য় দিন — দরবার স্কয়ার ও স্বয়ম্ভূনাথ
  • সকালে কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার, কুমারী মন্দির
  • দুপুরে স্বয়ম্ভূনাথ মন্দির ও সান্দরণীয় দৃশ্য উপভোগ
  • বিকেলে পুরনো কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক গলিতে হাঁটা
📅 ৪র্থ দিন — পাটান দিনট্রিপ
  • কাঠমান্ডু থেকে ট্যাক্সিতে পাটান শহর (৩০ মিনিট)
  • পাটান দরবার স্কয়ার, হিরণ্যবর্ণ মহাবিহার
  • পাটানের কারুশিল্পীদের কাজ দেখা ও কেনাকাটা
  • বিকেলে কাঠমান্ডু ফিরে বিদায়ী কেনাকাটা
📅 ৫ম দিন — প্রত্যাবর্তন
  • সকালে হোটেলে শেষ ব্রেকফাস্ট
  • চেক-আউট ও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা
  • ঢাকায় ফিরে আসা

কীভাবে যাবেন ও চলাচল

ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সবাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। এবং ইউএস-বাংলাবাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা। কাঠমান্ডু রুটে প্রায়শই বিমান বাংলাদেশের চেয়ে ভালো ডিল পাওয়া যায়। উভয়ই ঢাকা থেকে সরাসরি কাঠমান্ডু যায়। ফ্লাইট টাইম মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। টিকিট আগে থেকে বুক করলে ভালো ডিল পাওয়া যায়।

শহরের মধ্যে চলাচল

কাঠমান্ডুর ভেতরে চলাফেরার জন্য ট্যাক্সি, অ্যাপ-ক্যাব (Pathao বা inDrive), মাইক্রোবাস বা সাইকেল রিকশা ব্যবহার করতে পারেন। ট্যাক্সিতে মিটার ব্যবহার করতে বলুন নয়তো আগেই দাম ঠিক করে নিন।

ভ্রমণকারীদের জন্য জরুরি তথ্য

⚠️ সতর্কতা: ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে কাঠমান্ডুর কিছু ঐতিহাসিক স্থাপত্যের ক্ষতি হয়েছিল। এখনও পুনরুদ্ধার কাজ চলছে কোথাও কোথাও। নির্দিষ্ট স্থাপত্যে প্রবেশের আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে আপডেট নিন।

✅ কাজে লাগবে এমন টিপস

  • নেপালি রুপি আনার চেয়ে কাঠমান্ডুতে ডলার ভাঙানো ভালো
  • মন্দিরে ঢোকার সময় জুতো খুলতে হয়, মোজা পরে থাকুন
  • ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, বিশেষত লোকজনের ছবি
  • পানি সবসময় বোতলে কিনে পান করুন
  • উচ্চতার কারণে কেউ কেউ মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারেন, বিশ্রাম নিন
  • স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করুন — শর্ট পোশাকে মন্দিরে যাবেন না

এই ব্লগের অন্য পর্বগুলো দেখুন: সিয়েম রিপ ও আঙ্কোর ওয়াট — পর্ব #১৩ | পনম পেন — পর্ব #১২ | সব পর্বের তালিকা

সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান

কাঠমান্ডুর সবচেয়ে বড় উৎসব হল ইন্দ্র জাতরাইন্দ্র জাতরা নেপালের অন্যতম বড় উৎসব। ভাদ্র মাসে (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) পালিত হয়। এতে জীবন্ত দেবী কুমারীকে রথে করে শোভাযাত্রা করা হয়।। যদি সেপ্টেম্বরে যেতে পারেন, তাহলে কুমারী রথযাত্রা দেখার সুযোগ পাবেন — এটি সত্যিই এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

কাঠমান্ডুর মানুষেরা স্বভাবে অমায়িক। গোর্খালি সংস্কৃতির মিশেলে এখানকার সমাজ অনেকটা আমাদের মতোই — পরিবারকেন্দ্রিক, অতিথিপরায়ণ। ভুল করে নেপালিদের ভারতীয় বলবেন না, এতে তারা একটু মন খারাপ করেন।

কাঠমান্ডুর আরও তথ্যের জন্য দেখুন নেপাল ট্যুরিজম অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং UNESCO কাঠমান্ডু হেরিটেজ পেজ


❓ প্রায়ই জিজ্ঞেস করা প্রশ্নাবলী (FAQ)
হ্যাঁ, ভিসা লাগে। তবে অন অ্যারাইভাল সুবিধা আছে। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই ভিসা নেওয়া যায়। ১৫ দিনের ভিসার জন্য USD ৩০ এবং ৩০ দিনের জন্য USD ৫০ প্রয়োজন। পাসপোর্ট সাইজের ২টি ছবি এবং পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
অক্টোবর-নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল মাস কাঠমান্ডু ভ্রমণের সেরা সময়। আকাশ পরিষ্কার থাকে, আবহাওয়া মনোরম। বর্ষায় (জুন-সেপ্টেম্বর) বৃষ্টি বেশি হয়, তবে সবুজে ভরপুর থাকে। শীতে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ঠান্ডা বেশি পড়ে, গরম কাপড় নিন।
সাধারণত কাঠমান্ডু বেশ নিরাপদ গন্তব্য। ছিনতাই বা সহিংসতার ঘটনা বিরল। তবে সাধারণ সতর্কতা মেনে চলুন — ভিড়ে পার্স সামলান, রাতে একা অপরিচিত এলাকায় না যাওয়াই ভালো। স্ক্যাম থেকে সাবধান থাকুন, বিশেষত ট্যাক্সিতে মিটার চালু করতে বলুন।
নেপালের মুদ্রা নেপালি রুপি (NPR)। ১ বাংলাদেশি টাকা সাধারণত ১.২–১.৩ নেপালি রুপির সমান। কাঠমান্ডুর এক্সচেঞ্জ কাউন্টার বা ব্যাংক থেকে ভালো রেটে মুদ্রা বিনিময় করা যায়। ATM পাওয়া যায়, তবে এক্সট্রা চার্জ হতে পারে। ভারতীয় রুপিও অনেক জায়গায় গ্রহণযোগ্য।
না, পশুপতিনাথ মন্দিরের মূল প্রাঙ্গণে শুধু হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা প্রবেশ করতে পারেন। তবে বাইরে থেকে মন্দিরটি দেখা যায় এবং বাগমতী নদীর তীরে বসে আরতি উপভোগ করা যায়। পাশেই একটি পর্যবেক্ষণ পাহাড় আছে যেখান থেকে পুরো মন্দির চত্বরের অসাধারণ দৃশ্য পাওয়া যায়।
৫ দিনে কাঠমান্ডু পুরোপুরি দেখার পাশাপাশি পাটান ও ভক্তপুর দিনে গিয়ে ফেরা সম্ভব। আরেকটু বেশি দিন থাকলে পোখরা যেতে পারেন (৭ ঘণ্টা বাসে বা ৩০ মিনিটের ফ্লাইটে)। ৭-১০ দিনের ট্রিপে সংক্ষিপ্ত ট্রেকিং (যেমন নাগারকোট পর্যন্ত) করার সুযোগও পাবেন।
কাঠমান্ডু শহরে ইন্টারনেট সংযোগ মোটামুটি ভালো। বিমানবন্দরে পৌঁছেই Ncell বা NTC কোম্পানির সিম কার্ড কিনতে পারবেন। ২০০-৪০০ নেপালি রুপিতে ১-২ সপ্তাহের ডেটা প্যাক পাওয়া যায়। থামেলের বেশিরভাগ ক্যাফে ও রেস্তোরাঁতে ফ্রি ওয়াই-ফাই আছে।
আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন। শীতে অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি গরম জ্যাকেট আবশ্যক। গরমে হালকা পোশাক ঠিক আছে। তবে মন্দির পরিদর্শনের সময় সম্মানজনক পোশাক পরুন — হাঁটু ও কাঁধ ঢাকা থাকে এমন পোশাক বাঞ্ছনীয়। বেশিরভাগ মন্দিরে প্রবেশের আগে জুতো খুলতে হয়।
কাঠমান্ডু শহর থেকে সরাসরি মাউন্ট এভারেস্ট দেখা যায় না। তবে নাগারকোট (কাঠমান্ডু থেকে ৩২ কিমি) পাহাড় থেকে পরিষ্কার আকাশে হিমালয় রেঞ্জের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। এভারেস্ট সরাসরি দেখতে হলে লুকলা বা নামচে বাজার পর্যন্ত যেতে হয়।
পুলিশ: ১০০, অ্যাম্বুলেন্স: ১০২, ফায়ার ব্রিগেড: ১০১। বাংলাদেশ দূতাবাস কাঠমান্ডু: +৯৭৭-১-৫৫৪৩৩০৭। ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্পলাইন: ১১৪৪। কোনো জরুরি অবস্থায় হোটেলের রিসেপশন থেকেও সাহায্য নেওয়া সম্ভব।

কাঠমান্ডু একবার দেখলে, বারবার ফিরতে মন চায়।

এই পর্বটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ব্লগটি অনুসরণ করুন নতুন ভ্রমণ কাহিনীর জন্য।

#কাঠমান্ডু #নেপালভ্রমণ #পশুপতিনাথ #বৌদ্ধনাথ #হিমালয় #ভ্রমণসিরিজ #বাংলাদেশ_ট্রাভেলার

© ভ্রমণ ডায়েরি ব্লগ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

কোন মন্তব্য নেই

RBFried থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.